আসন নিয়ে দুই দলের সঙ্গে আলোচনায় এনসিপি!
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন নির্বাচনী জোট গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। এ বিষয়ে কোনো দলের নেতারাই পরিষ্কার বক্তব্য দিচ্ছেন না; বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী সব হবে বলে তাদের অভিমত।
তারা বলছেন, ‘প্রকাশ্যে অনেক বক্তব্য দিলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চলছে। নানা ইস্যুতে খণ্ডিতভাবে বা দলগতভাবেও আলাপ-আলোচনাও হচ্ছে। রাজনীতিতে যেহেতু শেষ বলে কোনো কথা নেই, তাই জোট হতে পারে; আবার এনসিপি এককভাবেও সব আসনে প্রার্থী দিতে পারে। সবকিছু নির্ভর করবে পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর। এনসিপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে এনসিপির নেতারা বলছেন, ‘দল ঘোষণার পর পার্টিতে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি। নিজেদের দলকে শক্ত ভিত তৈরিতে কাজ করছেন তারা। বিশেষ করে গঠনতন্ত্র, দলীয় স্লোগান, ঘোষণাপত্র, সাংগঠনিক কাঠামো ও দলীয় প্রতীক নিয়ে কাজ করছেন তারা। কারও সঙ্গে জোট বা সমঝোতা নিয়ে এখনো কোনো ভাবনা নেই।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির-এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সোমবার কালবেলাকে বলেন, ‘কারও সঙ্গে সমঝোতা হবে কি হবে না, সে আলাপ এখনো হয়নি। দল ঘোষণার পর আমরা আপাতত আমাদের প্রাথমিক কাজগুলোর দিকে মনোনিবেশ করেছি। এ ছাড়া বিএনপি গতানুগতিক ধারায় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়; অন্যদিকে আমরা চাই বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কার, নির্বাচনের সংস্কার। তাদের সঙ্গে এ বিষয়েও আমাদের মতবিরোধ আছে।’
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘বিএনপি কিংবা অন্য দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার যে বিষয়টি আসছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোনো আলাপ-আলোচনা এখনো আমাদের পার্টিতে হয়নি।’
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন কালবেলাকে বলেন, ‘ছাত্রদের দল ঘোষণার আগে আমরা, এবি পার্টিসহ কয়েকটা দল নিয়ে একক পার্টি করা যায় কি না সে চিন্তা ছিল। সেটি শেষ পর্যন্ত হয়নি। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক জোট হতে পারে। তারা (এনসিপি) যদি বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করে আমরা সেখানে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।
নতুন দলের সঙ্গে একীভূত হওয়া কিংবা নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নুরুল হক নুর কালবেলাকে বলেছিলেন, নতুন দলের সঙ্গে আমাদের একীভূত হওয়ার একটা আলোচনা ছিল। তবে বিএনপির সঙ্গেও তাদের আসন সমঝোতার বিষয়টি সামনে আসছে। তাই নতুন দলের সঙ্গে যাওয়ার এখন আর কোনো সম্ভাবনা নেই।’

Comments
Post a Comment